More

    Social Media হোক আয় করার হাতিয়ার

    বর্তমান সময়ে প্রায় প্রতিটি ব্যক্তিই Social Media ব্যবহার করে থাকে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তিরাও আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্লাটফর্মে সময় কাটিয়ে থাকে। বিগত কয়েক
    বছরের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি সোশ্যাল প্লাটফর্মই মানুষের কাছে কমবেশি পরিচিত পেয়েছে। এর মধ্যে ফেসবুক, ইউটিউব রয়েছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। আজ থেকে ১০/১২ বছর আগেও আমাদের দেশের মানুষজন সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে জানতো না বললেই চলে। কিন্তু বর্তমান সময়ের চিত্র পুরোটাই উল্টো। আর মজার ব্যাপার হল আজকাল অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়াকে শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না করে, তাকে আয়ের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন উপায়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয় করা যায়।

    কিছু উপায় এর মধ্যে আলোচনা করা হলঃ

    ১. ইউটিউবঃ

    সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি নাম হল ইউটিউব। Google এর পর সবথেকে বড় Search Engine হচ্ছে ইউটিউব। এটি একটি ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম হওয়ায় প্রতি মিনিটে লাখ লাখ মানুষ এই সাইটটিতে ভিজিট করতে আসে। এই প্লাটফর্ম-এ ক্রিয়েটর হিসেবে কাজ করে অনেকেই আজ ভালো অঙ্কের অর্থ আয় করছে। এছাড়া কিছুদিন আগেই Youtube Shorts video create করার জন্য ইউটিউব কর্তৃপক্ষ ১০০০০ USD ডলার পর্যন্ত Reward হিসেবে ঘোষনা করেছেন।

    ইউটিউব মনিটাইজেশনের মাধ্যমে কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা টাকা আয় করে থাকে, এর পাশাপাশি আরও
    বিভিন্ন উপায়ে ইউটিউব থেকে আয়ের সুযোগ রয়েছে। মানুষ ঘরে বসে নিজের Passion আর Skill
    কাজে লাগিয়ে ইউটিউবে ভিডিও বানিয়ে গড়ে তুলতে পারে একটি Successful Career।

    ২. ফেসবুকঃ

    Facebook-কে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম বলা যেতেই পারে। একটা সময় ছিল যখন মানুষ Social Media বলতে শুধুমাত্র ফেসবুককে বুঝে থাকত। বাংলাদেশে সোশ্যাল মিডিয়ার
    যে Revolution তা শুরু হয়েছিল ফেসবুকের হাত ধরেই। একটি রিপোর্ট থেকে জানা যায় বাংলাদেশের
    ৭০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। অর্থাৎ বলা যায় যে, দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ ফেসবুক
    সম্পর্কে অবগত। আর মজার একটি বিষয় হল আমাদের দেশের এমন কিছু মানুষ এখনো রয়েছে
    যারা ইন্টারনেট বলতে শুধুমাত্র ফেসবুককে বুঝে। বর্তমানে ফেসবুকও ভিডিও দেখার জন্য জনপ্রিয়
    প্লাটফর্ম হয়ে উঠেছে। আর ফেসবুকে কন্টেন্ট ক্রিয়েট করার জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এখন ক্রিয়টরদেরকে একটি নির্দিষ্ট পলিসি অনুসরণ করে অর্থ প্রদান করছে। মূলত ইউটিউবের মত
    ফেসবুক থেকেও Ad revenue এর মাধ্যমে টাকা আয় করা যায়। এছাড়া বিভিন্ন Sponsorship কাজে
    লাগিয়ে ফেসবুক পোস্ট থেকেও মনিটাইজ করা সম্ভব। আবার F-commerce বা ফেসবুকে অল্প কিছু
    অর্থ ইনভেস্ট করে বিজনেস করার মাধ্যমে ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করা সম্ভব। তাই শুধুমাত্র
    নিউজফিড স্ক্রল করে সময় অপচয় না করে, একে কাজে লাগতে হবে আয়ের উৎস হিসেবে।

    ৩. ইন্সটাগ্রামঃ

    Instagram-ও ফেসবুকের একটি সাব-ব্র‍্যান্ড। এর Features ফেসবুক থেকে অনেকাংশে ভিন্ন। মূলত
    ছবি শেয়ারিং প্লাটফর্ম হিসেবে ইন্সটাগ্রাম বিগত কয়েক বছরের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর
    ইউজাররা সাধারণত এই প্লাটফর্মটিকে পছন্দ করে ভাল কোয়ালিটির ছবি শেয়ার করার জন্য।
    ইন্সটাগ্রামে ১০০০০ ফলোয়ার হয়ে যাবার পর Sponsorship নেয়ার মাধ্যমে পোস্ট করে মনিটাইজ করা
    যায়। এছাড়া এই সাইটটিতেও একটি নির্দিষ্ট পলিসি অনুসরণ করে ভিডিও মনিটাইজ করার সুযোগ
    রয়েছে। শুধুমাত্র এই প্লাটফর্মটিকে ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারলেও মাসে লাখ টাকা ইনকাম করা
    সম্ভব। কিন্তু তার জন্য ধৈর্য নিয়ে শুধু কোয়ালিটি কন্টেন্ট বানিয়ে যেতে হবে। ইন্সটাগ্রামে যারা কন্টেন্ট
    বানিয়ে থাকে তাদেরকে সাধারণত ইন্সটাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার বলা হয়।

    ৪. টুইটারঃ

    টুইটার এমন একটি সামাজিক যোগাযোগ প্লাটফর্ম, যেটা Written Content এর জন্য প্রচলিত।
    আমাদের দেশে তুলনামূলকভাবে এর জনপ্রিয়তা অন্যান্য প্লাটফর্ম অপেক্ষা কিছুটা কমই বলা চলে।
    অন্যান্য Social Media থেকে টুইটারের ইউজারবেজ আমাদের দেশে অনেকাংশে কম। কিন্তু ইতিবাচক
    দিকটি হচ্ছে আমাদের দেশে টুইটার একটি গ্রোয়িং প্লাটফর্ম। মানুষ ধীরে ধীরে এখন এই সাইটটির
    প্রতিও আগ্রহী হয়ে উঠছে। তাই এখান থেকেও আয়ের সুযোগও তৈরি হচ্ছে দিনদিন। টুইটার
    একাউন্ট করে যদি একটি ভালো অডিয়েন্স বিল্ড করা যায় তবে এই সাইটটি থেকেও একটি ভালো
    পরিমাণ অর্থ পকেটে আসা অসম্ভব কোন বিষয় নয়। বিভিন্ন প্রকার স্পন্সরশিপ কাজে লাগিয়ে
    মনিটাইজ করা যাবে। এছাড়া এফিলিয়েট মার্কেটিং-ও করা যাবে টুইট করার মাধ্যমে। প্রফেশনাল
    একটি টুইটার একাউন্ট খুলে আপনি কাজ করতে পারবেন Ghost Writer হিসেবে এবং আয় করতে
    পারবেন। কিন্তু এই সাইটটি থেকে আয় করার ব্যাপারটি তুলনামূলক সময় সাপেক্ষ।

    ৫. হোয়াটসঅ্যাপঃ

    Social Media এর মধ্যে Whatsapp একটি সুপরিচিত নাম। কিছু বছর আগে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এই
    সোশ্যাল মিডিয়া সাইটটিকেও কিনে নিয়েছে। Privacy নিয়ে এই সাইটটি বিতর্কিত হলেও এর বিশাল
    একটি ইউজারবেস আছে। বিভিন্ন অনলাইন বিজনেস এই প্লাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে গ্রো করা
    সম্ভব। বিজনেসের জন্য একটি রাইট অডিয়েন্স এখান থেকে তৈরি করা যায়। বিভিন্ন Whatsapp
    Group এ পন্য কেনাবেচা করা যায় সহজেই। এছাড়া রিসেলিং-এর জন্য এটি একটি হট সাইট।
    এছাড়া এফিলিয়েট মার্কেটিং-এর জন্যও এই প্লাটফর্মকে কাজে লাগানো যেতে পারে। তাই বলাই যায়
    এই অ্যাপটিকে কাজে লাগিয়ে আয় করা যাবে। শুধু প্রয়োজন সঠিকভাবে এই অ্যাপটিকে কাজে
    লাগানো।

    Social Media এমন একটি দুনিয়ার নাম যেখানে এখন সবচেয়ে বেশি মানুষের চোখ থাকে। আর এই
    বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানি কর্তৃপক্ষরাও বিভিন্নভাবে এখান থেকে অর্থ
    আয় করছে এবং বাকিদেরও করার সুযোগ করে দিয়েছে। তাই এই Social Media কে কাজে লাগিয়ে
    নিজের স্কিল আর প্যাশন দিয়ে অর্থ আয় করা শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।

    Recent Articles

    spot_img

    Related Stories

    Leave A Reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here