More

    বিনিয়োগ সঞ্চয় থেকে ভিন্ন

    বিনিয়োগ সঞ্চয় হতে উদ্ভুত। সঞ্চয় আছে এমন মানুষ এবং প্রতিষ্ঠানের একটি অর্থনৈতিক কর্ম

    প্রচেষ্টা হচ্ছে বিনিয়োগ। কিন্তু সঞ্চয়কারী মাত্রি বিনিয়োগকারী নয়। বিনিয়োগ সঞ্চয় থেকে ভিন্ন, বরং

    বেশি কিছু।অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বলতে বুঝায়, আয় এবং উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে মূলধনী দ্রব্যের পিছনে ব্যয়, সহজ কথায়, নগদ অর্থ দিয়ে উৎপাদন যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল ক্রয়।

    অপরপক্ষে, ফিন্যান্স এ বিনিয়োগ বলতে শেয়ার, ডিবেঞ্চার

    কিংবা অন্যান্য সিকিউরিটি বিক্রয়লব্ধ অর্থ খাটানো কে বুঝায়। তবে এ দু য়ের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। কারণ শেয়ার ডিবেঞ্চার কিংবা অন্যান্য সিকিউরিটি বিক্রয়লব্ধ অর্থ উৎপাদনের যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, কাচামালের প্রভৃতি ক্রয়ের জন্যই ব্যয় করা হয়। আবার ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে বিনিয়োগর অর্থ ও ভিন্ন নয়।

    বিনিয়োগের বৈশিষ্ট্যঃ

    বিনিয়োগ মানুষের একটি বৈষয়িক কর্ম প্রচেষ্টা মানুষ তার নিশ্চিত পুঞ্জীভূত সঞ্চয় ঢেলে দেয় অনিশ্চিত

    উপার্জনের লক্ষ্যে। অতঃপর অপেক্ষার পালা। লাভ কখনো ধরা দেয় প্রত্যাশিত হারে,কখনও বা কম

    কখনো আবার গুনতে হয় লোকসান। কখনও ফুলে ফেঁপে ওঠে সম্পদ,কখনও আবার ক্ষয়ে যায় মূলধন। যা হোক বিনিয়োগ এর রয়েছে কিছু বৈশিষ্ট্যমন্ডিত উপাদান যা অনেক টা নিম্নরুপ ঃ

    ১.আয়ঃ

    যে কোন বিনিয়োগ এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট হচ্ছে আয়।প্রকৃতপক্ষে আয় অর্জনের প্রাথমিক

    উদ্দেশ্যেই কোন সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়। কোন আর্থিক সম্পদ থেকে সাধারণত দুভাবে পাওয়া যাতে

    পারে সময়ে সময়ে নগদ প্রবাহ (লভ্যাংশ কিংবা সুদ আকারে)এবং মেয়াদান্তে মূলধনী লাভ (বিক্রয়মূল্য এবং ক্রয়মূল্যের ব্যবধান)। ভিন্ন ভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ থেকে ভিন্ন ভিন্ন আয় হারের প্রতিশ্রুতি থাকে। কোন বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্তব্য আয় বিনিয়োগের প্রকৃতি, পরিপক্কতার মেয়াদ এবং অন্যান্য উপাদানের উপর নির্ভরশীল।

    ২.ঝুঁকি:

    প্রত্যেক বিনিয়োগ এর সাথেই কম বেশি ঝুঁকি বিদ্যমান। মূলধন ফেরত পেতে কিংবা খোয়া যাওয়া, সুদ

    না পাওয়া, অথবা আয়ের বিভিন্নতা প্রভৃতি বিষয় ঝুঁকির অন্তর্ভুক্ত।সরকারি সিকিউরিটি এবং ব্যাংক

    আমানতের মত বিনিয়োগ একটা ঝুঁকিমুক্ত হলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ।

    যা হোক,কোন বিনিয়োগ এর ঝুঁকি নিম্নোক্ত উপাদানের উপর নির্ভরশীল ঃ

    • পরিপক্কতার মেয়াদ যত বেশি, ঝুঁকির মাত্রা তত বেশি।
    • ঋণগ্রহীতার ঋণ প্রাপ্তি যোগ্যতা যত কম ঝুঁকি তত বেশি।
    • বন্ড কিংবা ডিবেঞ্চারের তুলনায় ইকুইটি শেয়ারের ঝুঁকি বেশি।

    বিনিয়োগ ঝুঁকি এবং আয় পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ;সাধারণভাবে ঝুঁকি যত বেশি, আয়ও তত বেশি।

    ৩.নিরাপত্তা:

    বিনিয়োগের নিরাপত্তা বলতে আর্থিক ক্ষতি কিংবা বিলম্ব ব্যতীত মূলধন ফিরে পাওয়া বুঝায়।প্রত্যেক

    বিনিয়োগকারী স্বভাবতই তার বিনিয়োগের নিরাপত্তা প্রত্যাশা করে থাকে।ত্ন তিনি তার মূলধন অক্ষত অবস্থায় এবং যথাসময়ে ফিরে পেতে চান।

    ৪.তারল্যঃ

    সহজে, দ্রুততার সাথে এবং যথাযথ মূল্যে বিক্রয়যোগ্য সম্পদের তারল্য রয়েছে বলে অভিহিত করা হয়।

    কতগুলো বিনিয়োগ যেমন ঃ

    কোম্পনি আমানত, ব্যাংক আমানত, ডাকঘর আমানত, জাতীয় সঞ্চয়প্ত্র

    প্রভৃতি বাজারযোগ্য নয়।আবার অগ্রাধিকার শেয়ার এবং ডিবেঞ্চারের মত বিনিয়োগ হাতিয়ার গুলো বাজারযোগ্য হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্রেতা পাওয়া যায় না। ফলে, এদের তারল্য উপেক্ষনীয়। স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত কোম্পানির ইকুইটি শেয়ারের স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সহজেই বাজারযোগ্য।

    একজন বিনিয়োগকারি স্বভাবতই তার বিনিয়োগ তারল্য, তহবিলের নিরাপত্তা এবং ন্যূনতম ঝুঁকিতে

    সর্বাধিক আয় পছন্দ করেন। বিনিয়োগকারীরা সাধারণভ “ন্যূনতম ঝুঁকিতে যথাসম্ভব বেশি আয় প্রত্যাশা

    করে। ঝুঁকি বলতে বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্তব্য প্রকৃত আয় প্রত্যাশিত আয় থেকে ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কে

    বুঝায়। আমক্ররা যদি বিনিয়োগ এর জন্য প্রচলিত আর্থিক সম্পদগুলো কে বিবেচনা করি, তাহলে

    সেগুলোকে আমরা বিভিন্ন ঝুঁকিশ্রেণিতে ভাগ করতে পারি।সরকারি সিকিউরিটিগুলো কার্যত ঝুঁকিমুক্ত

    হওয়ায় সেগুলো কে আমরা নিম্নোক্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করতে পারি। কোম্পানির ঋনপত্র এবং

    অগ্রাধিকার শেয়ারের মধ্যম ঝুঁকি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। কোম্পনির সাধারণ শেয়ার উচ্চ –

    ঝুঁকিশ্রেণির আর্থিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়ে একজন বিনিয়োগকারি কেবলমাত্র তখনই উচ্চতর ঝুঁকি গ্রহণ করতে তৈরী থাকবেন যখন তিনি আনুপাতিক ভাবে উচ্চত্র আয় প্রত্যাশা করেন। ঝুঁকি এবং আয়ের মধ্যে ট্রেড অফ বিদ্যমান। কোন বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয়ের হার উক্ত বিনিয়োগ এর সাথে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির সরাসরি সমানুপাতিক। এজন্য আর্থিকবাজারে বিভিন্ন ঝুঁকি আয়ের সমন্বয় বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সম্পদ রয়েছে।

    আর্থিক বাজারে যারা বিনিয়োগকারী, ঝুঁকি সম্পর্কে তাদের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ এবং তাদের ঝুঁকিবহন

    ক্ষমতাও ভিন্ন ভিন্ন। কিছু বিনিয়োগকারি আছে যারা ঝুঁকিগ্রহনে অনিচ্ছুক, আবার এমন কিছু

    বিনিয়োগকারী রয়েছেন যারা হয়তো ঝুঁকি গ্রহণ আগ্রহী। একজন বিনিয়োগকারির ঝুঁকিবহন ক্ষমতা তার

    আয়ের উপর নির্ভরশীল।অনুমান করা যায়, যার আয় বেশি, ঝুঁকি বহন করার ক্ষমতাও তার বেশি।

    প্রত্যেক বিনিয়োগকারী,তার অগ্রগন্যতা এবং সামর্থ্য অনুসারে, প্রত্যাশিত আয় এবং ঝুঁকির কাম্য সময়ের মাধ্যমে তার কল্যাণ সর্ব্বোচ্চকরণের প্রচেষ্টা চালান।

    Recent Articles

    spot_img

    Related Stories

    Leave A Reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here