More

    আয় করুন ভিডিও বানিয়ে

    একটা সময় ছিল যখন মানুষ বিনোদনের জন্য টিভি দেখত, বই পড়ত, মাঠে খেলাধুলা করত। কিন্তু
    বর্তমান সময়ের চিত্র অনেকাংশেই ভিন্ন। এখন বিশাল একটা অংশ বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয় ইন্টারনেট বা ভার্চুয়াল জগতকে। তারা টিভির বদলে বেছে নিয়েছে ইউটিউব, বইয়ের বদলে ই-
    বুক আর খেলার জন্য অনলাইন গেমস। এছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার করে কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া
    ব্যবহার করেনা এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। আর আরেকটি মজার ব্যাপার হল অধিকাংশ সোশ্যাল
    মিডিয়া ব্যবহারকারীরাই ভিডিও কন্টেন্ট আজকাল অন্যান্য কন্টেন্ট থেকে অনেক বেশি হারে
    কনজিউম করে থাকে, অনলাইন বিভিন্ন জরিপগুলো একটু ঘেটে দেখলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

    ভিডিও কন্টেন্ট বানানো কেন উচিৎ?


    পৃথিবীর সব থেকে বড় সার্চ ইঞ্জিন Google এর পরই Youtube এর নাম আসে যেটি একটি ভিডিও
    শেয়ারিং প্লাটফর্ম। এছাড়া NETFLIX, Amazon Prime, Hoichoi, Zee5 এসকল OTT প্লাটফর্ম ভিডিও কন্টেন্ট দিয়েই প্রতিনিয়ত অসংখ্য রেভিনিউ জেনারেট করে যাচ্ছে। এছাড়া কিছুদিন আগেই

    বাংলাদেশে Chorki নামক নতুন একটি OTT প্লাটফর্ম এসেছে, এখানেও ভিডিও কন্টেন্ট পাবলিশ করা
    হয়। অর্থাৎ এসকল OTT প্লাটফর্ম দেখলেই ধারণা করা যায় যে, ভিডিও কন্টেন্টের কতটা চাহিদা
    রয়েছে। বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইউটিউবার খালেদ ফারহান একবার তার একটি ভিডিওতে বলেছিলেন
    আগামী কয়েক বছর পর ৯০ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শুধুমাত্র ভিডিও কন্টেন্ট কনজিউম
    করতে ইন্টারনেটে এক্সেস করবে। তাই ভিডিও মেকিং যে কাজে আসবে তা নিঃসন্দেহে বলাই যায়।

    ভিডিও বানিয়ে টাকা আয়ের কিছু উপায়!!

    সাধারণত ইউটিউবে ভিডিও বানিয়ে ১৩টিরও বেশি উপায়ে আয় করা যায়। এছাড়া শুধুমাত্র ইউটিউব
    বাদেও প্রফেশনাল ভিডিওগ্রাফার হয়েও অফলাইনে আয় করা সম্ভব। সেজন্য সঠিকভাবে ভিডিও
    বানিয়ে তা মনিটাইজ করার রাস্তাগুলো জানতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে যেতে হবে। এই
    লেখায় সেগুলোর মধ্যে থেকেই কিছু টপিক নিয়ে আলোচনা করবঃ

    ১. ফ্রিল্যান্সিংঃ

    ফ্রিল্যান্সিং সাধারণত অনেক কাজের ক্ষেত্রেই করা যায়। গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট,
    অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, এনিমেশন, কন্টেন্ট রাইটিংসহ এমন আরও অনেক কাজ ফ্রিল্যান্সিং করা যায়।
    ভিডিওগ্রাফিও ফ্রিল্যান্সিং করা যায়। Fiverr, Upwork, Freelancer.com ছাড়াও আরও অনেক ফ্রিল্যান্সিং সাইট আছে যেখান থেকে ভিডিও মেকিং-এর কাজ পাওয়া যায় এবং যথাসময়ে কাজ ক্লায়েন্টকে সাবমিট করে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আয় করা যায়। এছাড়া ভিডিও এডিটিং-এর কাজও বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইটে এভেইলেবল থাকে। কারণ বর্তমান সময়ে ভিডিও মেকিং কিংবা ভিডিও এডিটিং
    দুটো কাজেরই বেশ ভালো পরিমাণ চাহিদা রয়েছে। এছাড়া কাজের দক্ষতা সম্পর্কে যদি কমবেশি
    মানুষকে জানানো যায়, তবে সেক্ষেত্রে অনলাইন বা অফলাইন দুভাবেই কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা
    বেড়ে যায়।

    ২. এফিলিয়েট মার্কেটিংঃ

    বর্তমানে অনলাইনের কাজগুলোর মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এমন অনেক প্রফেশনাল
    এফিলিয়েট মার্কেটার আছে যারা একাজের বিনিময়ে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করে থাকে।
    এফিলিয়েট মার্কেটিং বলতে মূলত বুঝায় কোন কোম্পানির প্রডাক্ট/সার্ভিস প্রমোট করে তার থেকে
    একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন আয় করা। এফিলিয়েটের জন্য ভিডিও কন্টেন্ট বানিয়ে কোন একটি
    প্রডাক্ট বা সার্ভিসকে পুরো ভিডিও কিংবা ভিডিওর কোন একটি অংশে সেটিকে প্রমোট করা হয়ে
    থাকে এবং ভিডিওর সাথে সেই প্রডাক্ট/সার্ভিসটি ক্রয় করার জন্য লিংক শেয়ার করা হয়। এরপর
    কেউ যদি সেটি ক্রয় করে তাহলে তার একটি কমিশন এফিলিয়েট মার্কেটারকে দেয়া হয়ে থাকে।
    এভাবে ভিডিও থেকে আয় করা সম্ভব।

    ৩. Google Adsense/ অ্যাড রেভিনিউঃ

    সাধারণত ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য সবচেয়ে পরিচিত যে মাধ্যম সেটা হচ্ছে অ্যাড রেভিনিউ
    কিংবা Google Adsense। ইউটিউবের নির্দিষ্ট কিছু পলিসি থাকে, যেগুলো অনুসরণ করে ইউটিউব
    মনিটাইজেশন চালু করা যায়। ইউটিউবে ভিডিও চলাকালীন যে এডগুলো ভিডিওতে চলে, তার
    ভিউয়ের উপর ভিত্তি করে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদেরকে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ পেমেন্ট প্রদান করে থাকে।
    এরকম এডসেন্স থেকে অনেক ইউটিউবার মাসে লাখ টাকা ইনকাম করে। একইভাবে ফেসবুক
    কর্তৃপক্ষও ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করার জন্য ক্রিয়েটরদেরকে পেমেন্ট দিয়ে থাকে। কিন্তু
    সেক্ষেত্রে পলিসি ইউটিউব থেকে কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে।

    ৪. পডকাস্টঃ

    Podcast শব্দটার সাথে অনেকেই পরিচিত নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে এর জনপ্রিয়তা থাকলেও
    আমাদের দেশে Podcast শব্দটিকে প্রায় নতুনই বলা চলে। পডকাস্ট বলতে বুঝায় যখন এক বা
    বিষয় নিয়ে চুলছেঁড়া আলোচনা করা হয়। সাধারণত এটি অডিও ফরম্যাটে হলেও বর্তমানে ভিডিও
    ফরম্যাটেও Creat করা হয়। আপনার কাছে যদি একটি নির্দিষ্ট অডিয়েন্সবেস থেকে থাকে তবে
    আপনি একটি পডকাস্ট শো-এর আয়োজন করে, সেখানে বিভিন্ন মানুষকে ইনভাইট করে তাদের
    কাজ সম্পর্কে মানুষকে জানাতে পারেন এবং বিনিময়ে একটি এমাউন্ট চার্জ করতে পারেন। এছাড়া
    পডকাস্টের ভিডিওতে প্রডাক্ট প্লেসমেন্ট করেও সেখান থেকে আয় করার সুযোগ রয়েছে।

    ৫. স্পন্সরশিপঃ

    Sponsorship ডিজিটাল দুনিয়ায় ক্রিয়েটরদের জন্য একটি পরিচিত শব্দ। কেননা স্পন্সরশিপকে

    ব্যবহার করে কমবেশি সকল ক্রিয়েটররাই ইনকাম করে থাকে। Sponsorship হলো কোন কন্টেন্ট বা

    ইভেন্টের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান বা কোন বিজনেসের প্রডাক্ট/সার্ভিসকে প্রমোট করা হয় এবং তার

    বিনিময়ে একটি অঙ্কের টাকা সেই কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে দেয়া হয় বা ইভেন্টে খরচ করা হয়।

    কাজেই বলা যায় ভিডিও কন্টেন্ট বানিয়ে তাতে স্পন্সর নিয়ে আয় করার আইডিয়া বেশ ভালো
    একটা উপায়। আর এই উপায়কে ব্যবহার করে ভালো অঙ্কের টাকা আয় করা সম্ভব।

    মানুষ ভিডিও দেখতে বর্তমানে খুববেশি আগ্রহী এবং ভবিষ্যতেও আশা করাই যায় যে এর পরিমাণ

    আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই ভিডিও মেকিং টাকা আয়ের জন্য এইটি উপযুক্ত ক্ষেত্র হতে পারে। এই

    লেখায় যে উপায়গুলো আছে সেগুলো বাদেও ভিডিওর মাধ্যমে আরও অনেক উপায়ে ইনকাম করা
    সম্ভব। শুধু প্রয়োজন সঠিকভাবে কাজ করে যাওয়ার।

    Recent Articles

    spot_img

    Related Stories

    Leave A Reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here