More

    ব্লগ তৈরি করে আয় করুন সেরা ৫টি উপায়

    ব্লগিং শব্দটা বলতে বুঝায় কোন ওয়েবসাইটে এক বা একাধিক টপিং নিয়ে বিস্তারিতভাবে লেখা বা
    আরটিকেল প্রকাশ করা। বর্তমান সময়ে এমন অনেক ব্লগার আছে যারা ব্লগিং করে বছরে কোটি
    টাকাও আয় করে থাকে। অনেকের কাছে এটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্যি। সঠিকভাবে ব্লগিং
    করতে পারলে ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করা তেমন কঠিন কোন বিষয় না। কিন্তু এর জন্য সময় ও
    শ্রম ঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। ফ্রি কিংবা পেইড দুভাবেই ব্লগিং শুরু করা সম্ভব। বিভিন্ন উপায়ে
    একাজ করে টাকা উপার্জন করা যায়। নিয়ে সেগুলোর মধ্যে থেকেই কয়েকটি উপায় নিয়েই
    আলোচনা করা হলঃ

    ১. এডসেন্সঃ

    ব্লগিং এ এডসেন্স বা বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে আয় করা বহুল পুরনো ও একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। অর্থাৎ
    একটি ব্লগিং ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স দ্বারা এড চালিয়ে সেই ওয়েবসাইটটিকে মনিটাইজ করা
    যায়। এক্ষেত্রে সেই সাইটটিতে যে পরিমাণ ট্রাফিক হবে তার উপর ভিত্তি করে সাইটটি ইনকাম করে
    থাকে। একজন ব্লগার যদি প্রফেশনাল পদ্ধতি অনুযায়ী কাজ করে যেতে পারে তবে সে একটি ব্লগিং
    সাইট থেকে বেশ ভালো পরিমাণ টাকা আয় করতে পারবে। কিন্তু সেটি একদিনে সম্ভব নয়। এজন্য
    ধৈর্য নিয়ে কাজ করে যেতে হবে, তবেই তা সম্ভব হবে।

    ২. এফিলিয়েট মার্কেটিংঃ

    ব্লগিং করে এফিলিয়েট মার্কেটিং দ্বারা আয় করার ব্যাপারটিও বেশ জনপ্রিয়। সাধারনত এফিলিয়েট
    মার্কেটাররা প্রডাক্ট প্রমোট করে যদি সেই প্রডাক্টটি সেল হয় তবে সে সেই সেল থেকে একটি অংশ
    কমিশন পেয়ে থাকে। বিভিন্ন এফিলিয়েট সাইটের পলিসি বিভিন্ন রকম। এক্ষেত্রে ঠিক প্রডাক্টটিকে
    বাছাই করে তারপর তা প্রমোট করতে হবে। কারণ সব এফিলিয়েট প্রডাক্ট-এ কমিশন এক হয়না।
    মার্কেটারকে বেশি কমিশনের প্রডাক্ট সিলেক্ট করে তা প্রমোট করতে হবে এবং লক্ষ রাখতে হবে যেন
    সেই প্রডাক্ট সত্যিকার অর্থেই যেন অডিয়েন্সদের উপকারে আসে। এফিলিয়েট প্রমোশনের একটি
    সুবিধাজনক দিক হল মার্কেটার শুধুমাত্র সঠিক কাস্টমারের কাছে প্রডাক্ট প্রমোট করবে। তার কাজ
    এতটুকুই। বাকি প্রডাক্ট ডেলিভারি করার দায়িত্ব সেই এফিলিয়েট ওয়েবসাইটটির। আর সেই কমিশনও
    সেই ওয়েবসাইটটি থেকে মার্কেটার সঠিক সময়ে পেয়ে যাবে। এভাবে ব্লগিং-এর দ্বারা এফিলিয়েট
    প্রমোশন করেও বেশ ভালো অঙ্কের টাকা উপার্জন করা যায়।

    ৩. স্পন্সরশিপঃ

    স্পন্সরশিপ বলতে বুঝায় যখন কোন কোম্পানী টাকা খরচ করে কোন ইভেন্ট বা কন্টেন্ট-এর
    মাধ্যমে তাদের প্রডাক্ট প্রমোট করে থাকে। ব্লগিং-এর ক্ষেত্রে যদি কোন ওয়েবসাইটে ভালো পরিমাণ
    ট্রাফিক জেনারেট হয়ে থাকে এবং সেই সাইটটির যদি সুপরিচিত কোন সাইট হয় তাহলে সেই
    সাইটটিকে অনেকেই স্পন্সর করতে আগ্রহী হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সেই সাইটটির মালিককে একটি
    নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে সেই কোম্পানীর প্রডাক্ট নিয়ে লিখতে বলা হতে পারে। এছাড়া
    স্পন্সর করার জন্য Motion Ad কিংবা Sticker Ad সেই স্পন্সরকৃত আরটিকেল বা ব্লগপোস্টে দেয়ার
    জন্য স্পন্সারের সাথে চুক্তি হয়ে থাকতে পারে। স্পন্সরশীপ ব্যবহার করে এডসেন্স থেকেও অনেক
    বেশি টাকা মাসে আয় করা সম্ভব।

    ৪. প্রডাক্ট/সার্ভিস সেলঃ

    কোন ব্লগিং ওয়েবসাইটে যখন বেশ ভালো পরিমাণ ট্রাফিক জেনারেট হবে তখন সেই ওয়েবসাইটটির
    ব্লগার বা ওনার সেই ওয়েবসাইটের ভিজিটরদের কাছে তার নিজস্ব কোন প্রডাক্ট বা সার্ভিস সেল
    করে মনিটাইজ করতে পারে। এজন্য কোন ফিজিকাল প্রডাক্ট বা ডিজিটাল প্রডাক্টও সেই
    ওয়েবসাইট থেকে সেল করা যেতে পারে। কিন্তু এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে যে সেই প্রডাক্টটি যেন
    ভ্যালুয়েবল হয়ে থাকে। কারণ ওয়েবসাইটের ভিজিটররা যদি প্রডাক্ট দ্বারা উপকৃত না হয়ে থাকে
    তবে পরবর্তী সময়ে সেই ওয়েবসাইটটি ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। অর্থাৎ সেই ওয়েবসাইটটি তার
    ভিজিটর হারাতে পারে।

    ৫. সাবস্ক্রিপশনঃ

    যখন কোন ওয়েবসাইট একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ট্রাফিক জেনারেট করে ও ভিজিটর পেয়ে যায় তখন
    তারা চাইলে সাবস্ক্রিপশন মডেল ব্যবহার করে সেখান থেকে টাকাব আয় করতে পারে। এজন্য অবশ্যই
    প্রিমিয়াম লেভেলের কন্টেন্ট সেই ব্লগার বা ওয়েবসাইটটিকে প্রডিউস করতে হবে এবং একটি পেমেন্ট
    গেটওয়ে ওয়েবসাইটে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে Monthly/Yearly একটি পেমেন্ট দিয়ে
    ভিজিটররা প্রিমিয়াম কন্টেন্ট পাবে এবং ওয়েবসাইট ওনারও আয় করতে পারবে। বর্তমান সময়ে
    সাবস্ক্রিপশন মডেল বেশ প্রফিটেবল একটি বিজনেস মডেল। বহু কোম্পানী এর মাধ্যমে বিলিয়ন
    বিলিয়ন ডলার আয় করে থাকে। তাই এই মডেলটি কাজে লাগিয়ে একজন ব্লগার বিশাল অঙ্কের অর্থ
    আয় করতে পারে বলে ধারণা করা যায়।

    এসকল পদ্ধতিগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে একজন ব্লগার তার ব্লগিং ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করতে
    পারে। কিন্তু এজন্য কোন শর্টকাট রাস্তা নেই। সঠিক নিয়ম মেনে কাজ করলেই শুধুমাত্র ব্লগিং করে
    সফলতা অর্জন করা সম্ভব।

    Recent Articles

    spot_img

    Related Stories

    Leave A Reply

    Please enter your comment!
    Please enter your name here